তাবলীগ কি ও কেন ?

দাওয়াত এসেছে কুফর আর শিরককে বিতারিত করে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। দুর্ভাগ্যের বিষয় আজ বেশিরভাগ মুসলমান দ্বীনের উপর চলে না, নানা রকম কুফরী আর শিরকী কাজে লিপ্ত। যেমন - হাদীসে এসেছে, নামাজ ছেড়ে দেওয়া কুফরী। যার নামাজ নাই তার দ্বীনও নাই। আজ মুসলমানের মধ্য থেকে আল্লাহ থেকে হওয়ার একী¡ন উঠে যাওয়ার কারণে তারা নানারকম শিরকী কথাবার্তা ও কার্জক্রমে লিপ্ত। বেশিরভাগ মুসলমানের মধ্যে এলেমের অভাবের কারণে তারা জানে না কিভাবে নামাজ পড়তে হয়, কিভাবে সহীহভাবে সূরা পড়তে হয় (অথচ ক্বেরাত অশুদ্ধ হলে নামাজ ভেঙে যায়), তারা জানে না যে কিভাবে ফরজ গোসল করতে হয়, এমনকি তারা কালেমাটা পর্যন্ত সহীহভাবে পড়তে পারে না ইত্যাদি ইত্যাদি। এজন্য দুনিয়ার সমস্ত মানুষের মধ্য থেকে কুফর ও শিরক বিতারিত করে তাদেরকে সহীহ দ্বীনের উপরে উঠানোর জন্য সারা বিশ্বে দাওয়াতের মেহনত চলছে।
তাবলীগ অর্থ পৌঁছানো। আল্লাহপাক কুরআনে বলেছেন - আমার দ্বীনের জন্য মেহনত কর। যেমন মেহনত করা আবশ্যক। আমি তোমাদেরকে সারা দুনিয়াতে আপন পয়গাম পৌঁছানোর জন্য নির্বাচন করেছি।
 রাসুলুল্লাহ (সঃ) বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে বলেন, হে লোক সকল, আমার কথা শোনো, আমি জানি না এবারের পর তোমাদের সাথে এই জায়গায় আর মিলিত হতে পারব কিনা।
আমার পর আর কোন নবী আসবে না। সুতরাং মনোযোগ দিয়ে শোন এবং আপন প্রতিপালকের দাসত্ব কর। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে। রমজানের রোযা রাখবে। সানন্দ চিত্তে নিজের ধন-সম্পদের যাকাত দিবে। নিজ পরওয়ারদেগারের ঘরে হজ্জ করবে। আপন আমির ও দায়িত্বশীলদের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা জান্নাতে যেতে পার।
হে মানবমন্ডলী ! একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমের দ্বীনি ভাই। মুসলিমগণ পরস্পর ভাই-ভাই। দ্বীনী ভাই সম্পর্কে আল্লাহপাক বলেন, “অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই। আর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে বর্ণনা করে থাকি (সূরা তাওবা-১১)। নবী করিম (সঃ) বলেন, শোন, এখানে যারা উপস্থিত আছ তাদের কর্তব্য হবে, যারা আজ এখানে উপস্থিত নেই তাদের কাছে এই নির্দেশ ও বাণীগুলো ঠিকমত পৌঁছে দেয়া। অনুপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে কেউ হয়তো এর মর্ম তোমাদের চেয়ে উত্তমরূপে বুঝবে ও সংরক্ষণ করবে।
অতএব এই দাওয়াতের দায়িত্ব সকল মুসলমান জাতির কেননা নবী (সঃ) সাহাবীদের এই বাণীগুলো পৌঁছে দিয়েছেন। এবং তখন সাহাবীরা বিভিন্ন স্থানে বেড়িয়ে পড়েন, এবং বিশ্বব্যাপী আল্লাহর রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার জন্য ছড়িয়ে পড়েন, এজন্যই আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাহাবীদের কবর দেখতে পাই।
দাওয়াত হল ফরজ। আল্লাহপাক কুরআনে বলেন- “আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহŸান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম” (সূরা আল ইমরান-১০৪)।
কুরআনে আল্লাহপাক আরও বলেন- সেই ব্যক্তির কথার চেয়ে ভাল কথা আর কার হইতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে। নিজে নেক আমল করে আর বলে যে নিশ্চয় আমি মুসলমানদের মধ্য হতে একজন।

দাওয়াতে তাবলীগ কি বিদআত ?

প্রশ্ন করি এর দ্বারা কি নিজের ফায়দা হওয়ার কথা মাওলানা ইলিয়াস (রহঃ) ভেবেছিলেন ? সহজ উত্তর, না। এর দ্বারা কি দ্বীনের কোনো ক্ষতি হচ্ছে ? সহজ উত্তর, না। বরং সারা বিশ্বে দাওয়াতের কাজ চলছে, বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এই দাওয়াতের কাজ চলছে এবং মানুষ দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করছে। শুধু ভারত পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ নয় বরং বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ এই দাওয়াতি কাজ করছে , মানুষকে জাহান্নাম থেকে জান্নাতের দিকে নেয়ার পায়তারা করছে। তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম এই দলটি ‘সুন্নাতে হাসানা’র পর্যায়ে পড়ে। যে সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলেছেন ঃ “যে ইসলামে কোন ভাল পদ্ধতি প্রচলন করবে সে উহার সওয়ার পাবে এবং সেই পদ্ধতি অনুযায়ী যারা কাজ করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে, তাতে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন খারাপ পদ্ধতি প্রবর্তন করবে সে উহার পাপ বহন করবে, এবং যারা সেই খারাপ পদ্ধতি অনুসরণ করবে তাদের পাপও সে বহন করবে, তাতে তাদের পাপের কোন কমতি হবে না” (মুসলিম)। একই ধরনের হাদীস ইবনে মাজাহ এর ২০৩, ২০৭ নং হাদিসেও পাওয়া যায়।
 
Top