তাবলীগের মসজিদওয়ার পাঁচ কাজ

১। প্রতি মাসে ৩ দিন করে আল্লাহর রাস্তায় লাগানো।
২। সাপ্তাহিক দুইটি গাশ্। (একটি নিজ মহল্লার মসজিদে, অপরটি পার্শ্ববর্তী মহল্লার মসজিদে)
৩। প্রতিদিন দুইটি তা’লীম। (একটি নিজ ঘরে অপরটি মসজিদে)।
৪। রোজানা আড়াই ঘন্টা থেকে ৮ ঘন্টা পর্যন্ত দা’ওয়াতী মেহনত করা।
৫। প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য পরামর্শ করা।

মসজিদওয়ার জামা’আতের সাথী কারা ?

যে মসজিদে যে সমস্ত মুসল্লী একাধিক ওয়াক্তের নামায পড়ে সে সমস্ত মুসল্লী সেই মসজিদের মসজিদওয়ার জামা’আতের সাথী। অথবা যে মুসল্লী ফজর এবং ঈশার নামায যে মসজিদে পড়ে সে সেই মসজিদের মসজিদওয়ার জামা’আতের সাথী। শুধু যারা (তাবলীগী) আমলে জুড়ে তারাই মসজিদওয়ার জামা’আতের সাথী এমন মনে করা ঠিক নয়।

প্রতিমাসে তিনদিন আল্লাহর রাস্তায় লাগানো

প্রতিমাসে সপ্তাহ নির্ধারণ কওে ৩ দিনের জন্য আল্লাহর রাস্তায় লাগানো, এমন নয় যে, এক মাসে লাগালাম আর এক মাসে লাগালাম না। প্রথম মাসে ২য় সপ্তায় লাগালাম, ২য় মাসে ৩য় সপ্তাহে লাগালাম। বরং প্রতি মাসে একই সপ্তাহে লাগানো। যদি প্রথম সপ্তাহে লাগাই পরবর্তী মাসগুলোতেও ১ম সপ্তাহে লাগাবো। যদি ২য় সপ্তাহে লাগাই তাহলে পরবর্তী মাসগুলোতেও ২য় সপ্তাহে লাগাবো। তবে চাঁদের মাস হিসেবে লাগালে ভাল হয়।

সপ্তাহে দুইটি গাশ্ত

১টি মহল্লার মসজিদেঃ নিজেদের এলাকার মাকামী কাজকে শক্তিশালী করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো মাকামী গাশ্ত। এটা হল দা’ওয়াতী কাজের মেরুদন্ড। মাকামী গাশ্ত সাধারণত সরকারী ছুটির দিন অথবা যেদিন মহল্লায় বা গ্রামে লোকজন বেশি থাকে। সেদিন হলে ভাল হয়। যে এলাকার লোক যত বেশি মজবুতির সাথে মাকামী গাশ্ত করবে সে এলাকায় তত বেশি দ্বীনের পরিবেশ চালু হবে। দ্বীনদার বাড়বে, নামাযী বাড়বে। পুরা সপ্তাহ মাকামী কাজের জন্য এমনভাবে চেষ্টা ফিকির করা যাতে প্রতি সাপ্তাহিক গাশ্তের থেকে ৩ দিনের জামা’আত বের হতে পারে। সাপ্তাহিক গাশ্তের দিনকে খুশির দিন, ফসল কাটার দিন মনে করা, পুরা সপ্তাহের দা’ওয়াতী মেহনতের ফসল কাটা হয় মাকামী গাশ্তের দিনে, মহল্লায় মেহনত করে মাকামী গাশ্তের সাথী বাড়ানোর চেষ্টা করা। যাদেরকে সপ্তাহ ভর দা’ওয়াত দেয়া হল তাদেরকে মাকামী গাশ্তে অবশ্যই জুড়ানো। যদি না জুড়ে পরবর্তী সপ্তাহ আবার তার পিছনে মেহনত করা। আর এভাবে মেহনত চালু থাকলে আল্লাহর রহমত, বরকত অবতীর্ণ হতে থাকবে আর বদদ্বীনী পরিবেশ দুর হতে থাকবে। আল্লাহ তা’আলা আযার, গযব, ফেৎনা, ফাসাদ উঠিয়ে নিবেন।
তবে হ্যাঁ এ জন্য শর্ত হল যে, দিন এবং ওয়াক্ত নির্ধারণ করে নেয়া। এমন নয় যে, এক সপ্তাহ রবিবারে আছরের পর গাশ্ত করলাম, এভাবে করলে লোকই পাওয়া যাবে না।

২য় গাশ্তটি অপর মহল্লায় করা

নিজের মহল্লায় মাকামী গাশ্ত চালু হয়ে যাওয়ার অর্থ হল মহল্লায় আল্লাহর রহমত, বরকত চালু হয়ে যাওয়া। নিজ মহল্লায় যখন আল্লাহর রহমত, বরকত চালু হয়ে যাবে তখন পার্শ্ববর্তী মহল্লা থেকে খারাবী মহল্লায় ঢুকতে চেষ্টা করবে। এইসব খারাবী থেকে নিজ মহল্লাকে হেফাজত করার জন্য পার্শ্ববর্তী মহল্লার মানুষদেরকে দ্বীনের উপর উঠানোর জন্য পার্শ্ববর্তী মহল্লায় ২য় গাশ্ত করা একান্ত জরুরি। যার ২য় গাশ্ত ঠিকমত হবে সে ১ম গাশ্ত ও ঠিকমত করতে পারবে। দ্বিতীয় গাশ্তের মজবুতির উপর নিজ মহল্লার গাশ্তে সাথীদের মজবুতি বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিদিন দুই তা’লীম

প্রতিদিন দুইটি তা’লীম করা, ১টি নিজ মহল্লার মসজিদে আর একটি নিজ ঘরে।
মহল্লার মসজিদে তালিম করা
নিজ মহল্লার মসজিদে ওয়াক্ত নির্ধারণ কওে যে কোন এক নামাযের পর অথবা যে ওয়াক্ত মুসুল্লী বেশী বসতে পারবে, এমন এক ওয়াক্তে ফাযায়েলে আমলের কিতাব থেকে তা’লীম করা। তা’লীম হল মসজিদে নববীর আমলগুলির একটি আমল।
নিজ ঘরে তালীম
দ্বীন পুরুষের জন্য যেমন জরুরী তেমন মহিলাদের জন্যও জরুরী। অতএব ঘরের মধ্যে তা’লীমের ব্যবস্থা করা খুবই জরুরী। ঘরের মাহরাম (যাদের সাথে দেখা জায়েয) সবাইকে নিয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট এক সময়ে এই তা’লীম করবে। এর দ্বারা ঘরের মধ্যে দ্বীনের পরিবেশ কায়েম হবে। স্ত্রী, পুত্র, মেয়ে, মা-বোনদের মধ্যে দ্বীনের জেহান বনবে। দ্বীনের উপর চলার যোগ্যতা পয়দা হবে। তা’লীমের ব্যবস্থা ঘওে চালু থাকলে অন্য কোন ফেৎনা-ফাসাদ ঘরে ঢুকতে পারবে না। নিজের ঘওে দাওয়াত চালু রাখা খুবই জরুরী না হয় অন্য দাওয়াত চালু হয়ে যাবে। যদি ঘরের মধ্যে শিক্ষিত কেহ না থাকে তাহলে মসজিদ থেকে যা শুনেছেন তাই ঘরে এসে মা, বোন, মেয়েদের শোনায়ে দিতে হবে।

রোজানা আড়াই ঘন্টা থেকে আট ঘন্টা পর্যন্ত দাওয়াতী মেহনত কি ও কেন ?

প্রতিদিন আড়াই ঘন্টা থেকে আট ঘন্টার সময় নিয়ে মহল্লার প্রত্যেক অলিতে-গলিতে ঘরে ঘরে, দ্বারে দ্বারে, বার বার যাওয়া। কেহ যদি আড়াই ঘন্টা সময় এক সাথে লাগাতে না পারে তাহলে কয়েকবাওে আড়াই ঘন্টা পুরা করবে, কেহ যদি কয়েকবারেও আড়াই ঘন্টা পুরা করতে না পারে, তাহলে সে ২৪ ঘন্টায় যতটুকু সময় লাগাতে পারে ততটুকু সময়ই লাগাবে। তবে এটা দাওয়াতের সবচেয়ে নিম্নস্তর।

আড়াই থেকে আট ঘন্টা সময় কোন কাজে ব্যয় করব ?

এ সময়ে পরামর্শ করা, পরামর্শেও পর পুরাতন সাথীদের সাথে সাক্ষাৎ করা। মহল্লার মসজিদে জামা’আত আসলে তাদের খোঁজ খবর নেয়া। মহল্লার কেহ জামা’আতে বের হলে তার ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া। মাকামী গাশ্ত থেকে নগদ জামা’আত বের করার জন্য চেষ্টা করা ইত্যাদি।
রোজানা পরামর্শ করা
দৈনিক যে কোন নামাযের পর সমস্ত সুসল্লিদেরকে নিয়ে দ্বীন জিন্দা করার উদ্দেশ্যে সমস্ত দুনিয়াকে সামনে রেখে বিশেষ কওে নিজ দেশ, নিজ এলাকা/মহল্লা বা গ্রামকে টার্গেট বানাইয়া চিন্তা ফিকির করা, এটার নামই রোজানা পরামর্শ। অল্প সময়ের জন্য হলেও রোজানা পরামর্শ করা চাই। পরামর্শে কেহ বসুক বা না বসুক, আমি বসবোই (ইনশাআল্লাহ)। যদি কেহ নাও বসে তবে নিজে একা একা মসজিদের পিলার/খুঁটিকে সামনে নিয়ে পরামর্শে বসে যাব। একা একাই চিন্তা ফিকির করব। ইনশাআল্লাহ একজনের ফিকিরেই পুরা মহল্লা ফিকিরবান হয়ে যাবে। পুরা মহল্লার সাথীরা পরামর্শ করনেওয়ালা হয়ে যাবে।
মেহনতের তরীকা
মনে করেন মহল্লা/গ্রামে ৩০০টি ঘর আছে। নিজেরা একটি লিস্ট তৈরী করুন এবং নম্বর বসান, অতঃপর সাথীদের চারটা ভাগ করুন। একেক ভাগে ৭৫টি ভর দিয়ে দেন। আর রাস্তা বা গোলি নির্ধারিত করে দিন। ১ম গ্রæপে ১-৭৫ নম্বর ঘর দিয়ে দিন, ২য় গ্রæপে ৭৬-১৫০ পর্যন্ত, ৩য় গ্রæপে ১৫১-২২৫ পর্যন্ত, ৪র্থ গ্রæপে ২২৬-৩০০ পর্যন্ত মেহনত করবে (ইনশাআল্লাহ)।
 
Top